ফান্ডের জন্য দৌড়াদৌড়ি করা আর ক্যাসিনোতে জুয়া খেলার সাথে
মিল ও প্রার্থক্য জেনে নিনঃ
====================
ইদানিং একটা ট্রেন্ড তৈরি হয়েছে। নতুন উদ্যোক্তাদের ফান্ডের পেছনে দৌড়াদৌড়ি করতে দেখা যাচ্ছে। “অমুকে অমুকে তমুক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ফান্ড পেয়েছে। তারা এখন এত কোটি টাকার কোম্পানি। তাই আমরাও হয়তো পাবো।”- এরকম ধারনা থেকেই মূলত তাদেরকে দৌড়াদৌড়ি করতে দেখা যাচ্ছে। এটার ভালো কিছু দিক আছে- যেমনঃ ফান্ডের আশায় ফান্ড প্রাপ্তির যোগ্যতা অর্জনের চেষ্টা করা, নতুন নতুন ব্যবসায়িক টার্ম সম্পর্কে আইডিয়া অর্জন করা ইত্যাদি, যেটা সাধারণত নতুন উদ্যোক্তাদের মাঝে দেখা যায়না।
.
তবে, এই দৌড়াদৌড়ি করতে গিয়ে অনেকেই নিজের অজান্তে পিছিয়ে পড়ছে। কিভাবে সেটা হচ্ছে ব্যাখ্যা করা যাক- GP Accelerator মোট ১০০০ আবেদন থেকে ৩৫ টা প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে সিলেক্ট করে। সেখান থেকে বিভিন্ন ধাপে যাচাই বাছাই করে ১০ থেকে ১২ জনকে মূল ধাপের জন্য সিলেক্ট করা হয়। তাদেরকে ৪/৫ মাসের বিভিন্ন ট্রেইনিং এন্ড মেন্টরিং এর মাধ্যমে গ্রেজুয়েট করার চেষ্টা করা হয়। হয়তো সবাই গ্র্যাজুয়েট হতে পারে, আবার একজনও না হতে পারে। তবে, এই ৪/৫ মাসে GP Accelerator তাদের পেছনে আলাদাভাবে ৬৫ লাখ টাকা করে খরচ করে। এক কথায় এই ১০/১২ জনের মধ্যে থাকতে পারাটা একটা বিশাল ব্যপার। আর গ্র্যাজুয়েট হয়ে যেতে পারলেতো কোনো কথাই নেই।
.
এবার অন্য দৃষ্টিকোন থেকে আলোচনা করা যাক। ১০০০ জনের মধ্যে যদি ১০ জন টিকে যায় তাহলে শতকরা হিসেবে এটা মাত্র ১%। তারমানে, বাকি ৯৯% প্রথমেই ছিটকে পড়বে। তারমানে যোগ্যতা সম্পন্ন অসংখ্য প্রতিষ্ঠানই প্রাথমিকভাবেই বাদ পড়ে যাবে। কারন, ১০০০ জনের মধ্যে অন্তত ৫০/১০০ জন খুব ভালো মানের প্রতিষ্ঠান হওয়ার কথা। তো, যেখানে ভালো ভালো প্রতিষ্ঠানের খাওয়া নই, সেখানে কালকে রাতে ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেইখা আজকে থেকেই ফান্ডের জন্য দৌড়াদৌড়ি কতটা যুক্তিসংগত সেটা আমার জানা নেই।
.
তাহলে কি করণীায়?
==============
আমি মনে করি, প্রথমেই ফান্ডের জন্য দৌড়াদৌড়ি করাটা বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারেনা। আবার ফান্ডের উপর নির্ভর করেই ব্যবসা শুরু করার প্লান করাটাকেও ওয়াইজ মনে করি না। মনে রাখতে হবে, এটা একটা প্রতিযোগীতা। মানে আপনার অনেক প্রতিযোগী থাকবে এবং তাদের মধ্য থেকেই আপনাকে উইন করতে হবে। এবং বিচারকরা আপনার বর্তমান অবস্থাকেও মূল্যায়ন করবে। অর্থ্যাৎ, আপনার প্রতিষ্ঠানকি এখনও আইডিয়া লেভেলে আছে? নাকি ইমপ্লিমেন্টেশনের কোনো একটি ধাপে আছে, নাকি অলরেডি মার্কেটে আছে নাকি ইতিমধ্যেই রেভিনিউ অর্জন করা শুরু করেছে।
.
তাই, প্রতিটা মুহূর্তে আপনাকে সামনের দিকে আগাতে হবে। ফান্ড আপনাকে একেবারে প্রথমে কেউই দিবেনা। আমি কিছু স্টেপের কথা বলতে পারি। কোনো বিজনেস আইডিয়া মাথায় আসলে যা যা করতে পারেনঃ-
১. ডোমেইন হোস্টিং কিনে একটা সাইট রেডি করা।
২. প্রতিষ্ঠানের নামে ইমেইল খোলা এবং ইমেইল সিগনেচার যাতে প্রফেশনালি তৈরি করা থাকে সেদিকে খেয়াল রাখা।
৩.ভিজিটিং কার্ড থাকলে ভালো হয়।
৪. ট্রেড লাইসেন্স এবং কারেন্ট একাউন্ট থাকলে ভালো হয়।
৫. ফেইসবুক পেইজ থাকাটা আপনাকে এগিয়ে রাখতে পারে।
৬. কো-ওয়ার্ক স্পেসে ছোট্ট পরিসরে হলেও একটা অফিস থাকতে পারে।
৭. আইডিয়া লেভেল থেকে শেষ পর্যন্ত কিছু ধাপ রেডি করা যেখানে প্রথমদিকে ফান্ডের কোনো ব্যপার যেনো না থাকে। অর্থ্যাৎ, ফান্ড পান বা না পান নিজেদের ক্ষুদ্র সামর্থ দিয়ে যাতে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম কিছুদুর হলেও চালিয়ে নেয়া যায় সে ব্যপারটা মাথায় রাখতে হবে। এবং ধাপগুলো অনুসুরন করে ওয়ার্ক প্লান করে সামনে এগিয়ে যাওয়া।
৮. যদি সম্ভব হয়, ব্যবসাটা ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও শুরু করে দেয়া এবং রেভিনিউ জেনারেট করার চেষ্টা করা। যে ১০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করে ১০০ টাকা কামাইয়ের উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারে, সে নিশ্চয়ই স্টেজে দাড়িয়ে বলতে পারবে যে- আমরা ১ কোটি টাকা পেলে মাসে ১ লাখ টাকা কামাতে পারবো।
৯. একদিকে প্লান /রুটিন ওয়াইজ কাজ চলতে থাকবে, আরেকদিকে ফান্ডের জন্য চেষ্টা করতে থাকুন। তাহলে ফান্ড পান বা না পান অন্তত পিছিয়ে পড়বেন না। তাছাড়া, ধরুন, আপনি অনেক জায়গায় এপ্লাই করেছেন এবং প্রতি মাসে ১টি করে জায়গায় আপনাকে প্রেজেন্টেশান দিতে হচ্ছে, তাহলে প্রতি মাসেই কিন্তু আপনার প্রতিষ্ঠান এগিয়ে যাচ্ছে কিছুটা হলেও। তার মানে নতুন নতুন বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সামনে দাড়িয়ে কথা বলার সাহস ও দক্ষতা যেমন বাড়ছে, তেমনিভাবে আপনার প্রতিষ্ঠানের ফান্ড পাওয়ার যোগ্যতাও কিন্তু দিন দিন বাড়ছে। তাছাড়া, ফান্ড না পেলেও আপনার প্রতিষ্ঠান কিন্তু পিছিয়ে যাচ্ছে না। কারন, আপনার প্রতিষ্ঠান ফান্ড নির্ভর প্রতিষ্ঠান নয়।
.
ক্যাসিনোতে কি হয়? জিতলে বিশালভাবে জিতে, আর হারলে নিঃস্ব হয়ে যায়। সুতরাং, ফান্ডের উপর নির্ভরশীলতা যেনো ক্যাসিনোতে জুয়া খেলার মতো না হয়ে যায়।
মিল ও প্রার্থক্য জেনে নিনঃ
====================
ইদানিং একটা ট্রেন্ড তৈরি হয়েছে। নতুন উদ্যোক্তাদের ফান্ডের পেছনে দৌড়াদৌড়ি করতে দেখা যাচ্ছে। “অমুকে অমুকে তমুক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ফান্ড পেয়েছে। তারা এখন এত কোটি টাকার কোম্পানি। তাই আমরাও হয়তো পাবো।”- এরকম ধারনা থেকেই মূলত তাদেরকে দৌড়াদৌড়ি করতে দেখা যাচ্ছে। এটার ভালো কিছু দিক আছে- যেমনঃ ফান্ডের আশায় ফান্ড প্রাপ্তির যোগ্যতা অর্জনের চেষ্টা করা, নতুন নতুন ব্যবসায়িক টার্ম সম্পর্কে আইডিয়া অর্জন করা ইত্যাদি, যেটা সাধারণত নতুন উদ্যোক্তাদের মাঝে দেখা যায়না।
.
তবে, এই দৌড়াদৌড়ি করতে গিয়ে অনেকেই নিজের অজান্তে পিছিয়ে পড়ছে। কিভাবে সেটা হচ্ছে ব্যাখ্যা করা যাক- GP Accelerator মোট ১০০০ আবেদন থেকে ৩৫ টা প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে সিলেক্ট করে। সেখান থেকে বিভিন্ন ধাপে যাচাই বাছাই করে ১০ থেকে ১২ জনকে মূল ধাপের জন্য সিলেক্ট করা হয়। তাদেরকে ৪/৫ মাসের বিভিন্ন ট্রেইনিং এন্ড মেন্টরিং এর মাধ্যমে গ্রেজুয়েট করার চেষ্টা করা হয়। হয়তো সবাই গ্র্যাজুয়েট হতে পারে, আবার একজনও না হতে পারে। তবে, এই ৪/৫ মাসে GP Accelerator তাদের পেছনে আলাদাভাবে ৬৫ লাখ টাকা করে খরচ করে। এক কথায় এই ১০/১২ জনের মধ্যে থাকতে পারাটা একটা বিশাল ব্যপার। আর গ্র্যাজুয়েট হয়ে যেতে পারলেতো কোনো কথাই নেই।
.
এবার অন্য দৃষ্টিকোন থেকে আলোচনা করা যাক। ১০০০ জনের মধ্যে যদি ১০ জন টিকে যায় তাহলে শতকরা হিসেবে এটা মাত্র ১%। তারমানে, বাকি ৯৯% প্রথমেই ছিটকে পড়বে। তারমানে যোগ্যতা সম্পন্ন অসংখ্য প্রতিষ্ঠানই প্রাথমিকভাবেই বাদ পড়ে যাবে। কারন, ১০০০ জনের মধ্যে অন্তত ৫০/১০০ জন খুব ভালো মানের প্রতিষ্ঠান হওয়ার কথা। তো, যেখানে ভালো ভালো প্রতিষ্ঠানের খাওয়া নই, সেখানে কালকে রাতে ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেইখা আজকে থেকেই ফান্ডের জন্য দৌড়াদৌড়ি কতটা যুক্তিসংগত সেটা আমার জানা নেই।
.
তাহলে কি করণীায়?
==============
আমি মনে করি, প্রথমেই ফান্ডের জন্য দৌড়াদৌড়ি করাটা বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারেনা। আবার ফান্ডের উপর নির্ভর করেই ব্যবসা শুরু করার প্লান করাটাকেও ওয়াইজ মনে করি না। মনে রাখতে হবে, এটা একটা প্রতিযোগীতা। মানে আপনার অনেক প্রতিযোগী থাকবে এবং তাদের মধ্য থেকেই আপনাকে উইন করতে হবে। এবং বিচারকরা আপনার বর্তমান অবস্থাকেও মূল্যায়ন করবে। অর্থ্যাৎ, আপনার প্রতিষ্ঠানকি এখনও আইডিয়া লেভেলে আছে? নাকি ইমপ্লিমেন্টেশনের কোনো একটি ধাপে আছে, নাকি অলরেডি মার্কেটে আছে নাকি ইতিমধ্যেই রেভিনিউ অর্জন করা শুরু করেছে।
.
তাই, প্রতিটা মুহূর্তে আপনাকে সামনের দিকে আগাতে হবে। ফান্ড আপনাকে একেবারে প্রথমে কেউই দিবেনা। আমি কিছু স্টেপের কথা বলতে পারি। কোনো বিজনেস আইডিয়া মাথায় আসলে যা যা করতে পারেনঃ-
১. ডোমেইন হোস্টিং কিনে একটা সাইট রেডি করা।
২. প্রতিষ্ঠানের নামে ইমেইল খোলা এবং ইমেইল সিগনেচার যাতে প্রফেশনালি তৈরি করা থাকে সেদিকে খেয়াল রাখা।
৩.ভিজিটিং কার্ড থাকলে ভালো হয়।
৪. ট্রেড লাইসেন্স এবং কারেন্ট একাউন্ট থাকলে ভালো হয়।
৫. ফেইসবুক পেইজ থাকাটা আপনাকে এগিয়ে রাখতে পারে।
৬. কো-ওয়ার্ক স্পেসে ছোট্ট পরিসরে হলেও একটা অফিস থাকতে পারে।
৭. আইডিয়া লেভেল থেকে শেষ পর্যন্ত কিছু ধাপ রেডি করা যেখানে প্রথমদিকে ফান্ডের কোনো ব্যপার যেনো না থাকে। অর্থ্যাৎ, ফান্ড পান বা না পান নিজেদের ক্ষুদ্র সামর্থ দিয়ে যাতে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম কিছুদুর হলেও চালিয়ে নেয়া যায় সে ব্যপারটা মাথায় রাখতে হবে। এবং ধাপগুলো অনুসুরন করে ওয়ার্ক প্লান করে সামনে এগিয়ে যাওয়া।
৮. যদি সম্ভব হয়, ব্যবসাটা ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও শুরু করে দেয়া এবং রেভিনিউ জেনারেট করার চেষ্টা করা। যে ১০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করে ১০০ টাকা কামাইয়ের উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারে, সে নিশ্চয়ই স্টেজে দাড়িয়ে বলতে পারবে যে- আমরা ১ কোটি টাকা পেলে মাসে ১ লাখ টাকা কামাতে পারবো।
৯. একদিকে প্লান /রুটিন ওয়াইজ কাজ চলতে থাকবে, আরেকদিকে ফান্ডের জন্য চেষ্টা করতে থাকুন। তাহলে ফান্ড পান বা না পান অন্তত পিছিয়ে পড়বেন না। তাছাড়া, ধরুন, আপনি অনেক জায়গায় এপ্লাই করেছেন এবং প্রতি মাসে ১টি করে জায়গায় আপনাকে প্রেজেন্টেশান দিতে হচ্ছে, তাহলে প্রতি মাসেই কিন্তু আপনার প্রতিষ্ঠান এগিয়ে যাচ্ছে কিছুটা হলেও। তার মানে নতুন নতুন বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সামনে দাড়িয়ে কথা বলার সাহস ও দক্ষতা যেমন বাড়ছে, তেমনিভাবে আপনার প্রতিষ্ঠানের ফান্ড পাওয়ার যোগ্যতাও কিন্তু দিন দিন বাড়ছে। তাছাড়া, ফান্ড না পেলেও আপনার প্রতিষ্ঠান কিন্তু পিছিয়ে যাচ্ছে না। কারন, আপনার প্রতিষ্ঠান ফান্ড নির্ভর প্রতিষ্ঠান নয়।
.
ক্যাসিনোতে কি হয়? জিতলে বিশালভাবে জিতে, আর হারলে নিঃস্ব হয়ে যায়। সুতরাং, ফান্ডের উপর নির্ভরশীলতা যেনো ক্যাসিনোতে জুয়া খেলার মতো না হয়ে যায়।

No comments:
Post a Comment